Thursday, July 23, 2015

হ্যালো ঢাকা

তাজমহল রোডে
বিকেল ঘড়ির চারটায়
সূর্য ঠিকই এসে গড়াগড়ি খায়
তোমার কোলে বারান্দায়..


Wednesday, July 15, 2015

মেঘগুলো অনেক দূরে তবু...

এই ছবিটা থেকে উঠে এসে ডালপালা গুলো এখন মাথার ভেতরে কিরকম যেন গুটিগুটি পায়ে হেঁটে স্মৃতিগুলোকে টোকা দিয়ে যাচ্ছে... বৃষ্টির আগে মাটির সোঁদা গন্ধে দুজন মিলে বুক ভরে নিঃশ্বাস, হাকিম চত্বরে ভিজে দুই কাপ চায়ে টুপটাপ বৃষ্টি, ভীষণ বাতাসে ভেসে চলা রিকশা, অথবা ঝাপসা পৃথিবীর সামনে শুধু স্পষ্ট তুমি...

এই গানটা টুনি তোমার জন্য...





Monday, October 28, 2013

Siemens CX70

আহ, আমার সেই Siemens CX70! আমার প্রথম কেনা মোবাইল সেট । কিনেছিলাম ২০০৫ এর ৫ ফেব্রুয়ারি। তারিখটা  কী করে পারলাম? নাহ, স্মৃতি এতো প্রখর হলে তো হতোই। কেনার পর বাসায় এসেই কতগুলো ছবি তুলেছিলাম। সেই ছবিগুলো  থেকেই তারিখটা বের করে নিলাম।  উত্তেজনার কোন সীমা ছিলনা সেদিন। যখন  তখন শবনমকে এবার ফোন  করতে পারবো। তাছাড়া  ক্যামেরা ফোন, জাভা এপ্লিকেশন চলবে, আরো কতো  কী।  বান্না আমাকে নিয়ে গিয়েছিল ইস্টার্ন প্লাজায়। ক্যামেরায় তোলা  প্রথম ছবিটাও বান্নার।

এই সেট নিয়ে কত শত  যে স্মৃতি। ওই সেটটা ছিল বলেই কত আটপৌরে ছবিতে সেই সময়টা এখনো ফিরে দেখতে পাই। এখনকার তুলনায় প্রাগঐতিহাসিক আমলের ভিজিএ ক্যামেরা হয়তো কিন্তু সেই সাদামাটা সস্তা  ক্যামেরার তোলা দুর্বল রেজুলুশনের একেকটা ছবিই কত দামী। যেমন এই ছবিটা। ক্যামেরা কিনে বাসায় এসে রাইয়ানকে বললাম দাড়াও ছবি তুলি তোমার। সাথে সাথে খুশী হয়ে ওর কী হাসি!


Saturday, October 09, 2010

তুমি প্রিয় কবিতার ছোট্ট উপমা...

রেডিও গুনগুন চলছিল। এখন প্রায় সময়ই কোন না কোন রেডিও ছেড়ে রাখি। হঠাৎ আইয়ুব বাচ্চুর এই গানটা ছাড়লো। আমার খুব প্রিয় একটা গান। গানটা অনেক কথা মনে করিয়ে দিল। মনে পরে গেল প্রথমবার গানটা শোনার সময়কার কথা। প্রথমবার গানটা শুনেছিলাম এক বড় ভাইয়ের মুখে। ক্লাস নাইনে পড়ি তখন। আমাদের কলেজে তখন (এখনও হয়তো) প্রতি বছর প্রত্যেকটা আবাসিক হলের হাউস ফাংশান আয়োজন করতে হতো। বিশাল উৎসবের ব্যাপার ছিল সেটা। মাসব্যাপী পরিকল্পনা চলতো। প্রতিটা হাউস চেষ্টা করতো গুনে মানে অন্য সব হাউসকে ছাড়িয়ে যেতে। খুব উপভোগ্য ছিল সেই প্রতিযোগিতা। সেই অনুষ্ঠানের উপর ভিত্তি করে আবার হাউসগুলোর র‍্যাংক করা হতো। আমি যখন ক্লাস নাইনে পড়ি তখন আমি ছিলাম নজরুল ইসলাম হাউসের ছাত্র। আমাদের হাউস মাস্টার তখন ছিলেন আমিনুল ইসলাম স্যার। হাউস ফাংশানের উপস্থাপক হিসেবে কেন যেন তিনি আমাকে পছন্দ করেছিলেন। আমার সাথে অবশ্য একজন দ্বাদশ শ্রেণীর ভাইয়াও ছিলেন উপস্থাপক হিসেবে।সেই অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করতে গিয়ে পুরো অনুষ্ঠানের সাথেই জড়িয়ে গিয়েছিলাম। আমি অনাবাসিক ছিলাম। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে আমি বেশ কয়েকদিন হাউসে কাটিয়েছিলাম। অনুষ্ঠানের প্রতিটি খুটিনাটি মুখস্ত হয়েগিয়েছিল মহড়া দিতে দিতে। অনেক মজা হতো। প্রথম প্রথম বেশ নার্ভাস লাগতো। তারপর আস্তে আস্তে ভরসা পেলাম, মনে হতে লাগ্লো উৎরে যাব। সেই অনুষ্ঠানের মহড়া করতে গিয়ে প্রথম এই গানটা শুনি অলিন ভাইএর মুখে। প্রথমবার শুনেই মুগ্ধ হয়েছিলাম। অলিন ভাইএর গানের গলা খুব ভাল ছিল। সেজন্যই বোধহয় উনি গানটার ব্যাপারে বেশ কনফিডেন্ট ছিলেন। মহড়াতে মনে হয় কেবল একবারই তাকে গাইতে শুনেছি আমি। মূল অনুষ্ঠানে গানটা শোনার জন্য তাই মনে মনে অপেক্ষা করছিলাম। তখন মাত্র নাইনে পড়ি। দ্বাদশ শ্রেণীর ভাইদের কি যে বড় মনে হতো। এখন ভাব্লে হাসি পায়। তখন তদের দেখে মনে হতো কতো কিছু তারা পারে, কত দ্বায়িত্ব তারা কতো সহজ ভাবে নেয়! আমার সাথে যেই ভাইয়াটা উপস্থাপনা করেছিলেন তার নামটা ভুলে গেছি। অলিন ভাইকে মনে থাকার কারণ আছে। কলেজের অন্যতম স্মার্ট ভাইয়া ছিলেন তিনি। আর মূল অনুষ্ঠানের দিন একটা ঘটনা তাকে আরও ভুলতে দেয়নি। আমার তখনও কোন ব্লেজার ছিল না। সাধারণতো কলেজের ছাত্ররাই ব্লেজার বানাতো তখন। আমি অনুষ্ঠানের দিন গিয়ে দেখি আমার সহ উপস্থাপক ব্লেজার পরে আছেন। তাকে দেখে আমার নিজেকে বেমানান মনে হতে লাগ্লো। হীন্মন্যতায় ভোগা শুরু হল। একটা সময় গিয়ে মনও বেশ খারাপ হয়ে গেল। আশা করছিলাম উপস্থাপনার সময়টা হয়তো কোন বড়ভাই তার ব্লেজার খুলে আমাকে দিবেন। কিন্তু কাউকে দেখছিলাম না নিজে থেকে কিছু বলতে। এই সময় অলিন ভাই নিজেই এসে আমাকে তার ব্লেজারটা দিয়েছিলেন।সাইজে আমার একটু বড় হয়েছিল। কিন্তু তাতে কি, ব্লেজার পরে আছি এই সুখে মহা আনন্দে উপস্থাপনা করেছিলাম। আমাদের পুরো অনুষ্ঠান একদম পরিকল্পনামাফিক হয়েছিল। এবং আমরা সেবার চ্যাম্পিয়ান হাউস হয়েছিলাম। কি যে আনন্দ আর গর্ব হয়েছিল সেদিন!

Sunday, March 07, 2010

ভোরের ঘ্রাণ

জানালায় দাঁড়িয়ে আছি। ঠাণ্ডা একটা আরামদায়ক বাতাস হচ্ছে। শরীর জুড়ানো বাতাস। কান পাতলে বাতাসের শোঁ শোঁ আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি। পুরো ঢাকা শহর ঘুমিয়ে পড়েছে। দূরে জাপান গার্ডেন সিটির বিল্ডিং এর ঘুমন্ত সারি। রাত বাজে তিনটা। বাতাসটা ভালো লাগছে খুব গায়ে মুখে মাখতে। বুক ভরে নিঃশ্বাস নিচ্ছি। অনেকদিন ভোরে উঠিনা। এই বাতাসটা আমাকে ভোরের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। বাতাসে একটা ভোর ভোর ঘ্রাণ পাচ্ছি। মনে হচ্ছে কি আর একটু পরেই ভোর হয়ে যাবে। ভোরের কথা মনে হতেই অনেক আগের কিছু ভোরবেলার স্মৃতি মনে পড়ে যাচ্ছে। একসময় আব্বা খুব সকালে হাঁটতে বের হতেন। সংসদ ভবন পুরোটা চক্কর দিয়ে ফিরতেন। স্কুল ছুটি থাকলে কোন কোন ভোরবেলা আমি, আমার ভাই-বোনও সঙ্গী হতাম। আব্বার সাথে তখন পাল্লা দিয়ে হাঁটতে পারতাম না। শুধু পেছনে পড়ে যেতাম। তাই একটু পরপর দৌড়ে নিতে হতো। কত রকম মানুষ দেখতাম। পত্রিকার হকারদের দেখতাম সাইকেল চেপে ছুটতে। মাঠা বলে এক অদ্ভুত বস্তু বিক্রি করতো কিছু মানুষ। কিছু মানুষ কত অদ্ভুত রকম ব্যায়াম করতো আপন খেয়ালে। কোন কোন জায়গায় দেখতাম দলবেঁধে ব্যায়াম করার দৃশ্য। একজন সামনে থেকে নির্দেশনা দিত আর পেছনে লোকজন তাকে অনুকরণ করতো। সংসদ ভবনের খুব কাছেই থাকতাম তখন আমরা। বাসা থেকে বেরিয়ে আধ মাইল হাঁটলেই ঢুকে পড়তাম সংসদ ভবন এলাকায়। সেখানে মূল রাস্তাটা ধরে হাঁটতাম। কখনও বামে ঢুকে জিয়ার কবরের ওদিক দিয়েও ঘুরে আসতাম। এরপর যুদ্ধ বিমানটা যেখানে রাখা সেখানে গিয়ে ডানে মোড় নিয়ে হাঁটতাম। তারপর আরেকটা ডানে বাঁক নিয়ে লাল ইটের একটা টানেলের মত জায়গায় বলে যেতাম। সেখানে থেকে সামনে হেঁটে যেতে থাকলে একসময় চলে আসতো আসাদ গেইট। ওখানে ভোর বেলাতে পত্রিকার পাহাড় জমতো। হকাররা জড়ো হতো একসাথে। টাটকা ছাপা হওয়া পত্রিকা একসাথে দেখতে যে কী ভীষণ ভালো লাগতো। আসাদ গেইটের মোড়ে একটা পত্রিকার স্ট্যান্ডে সেবা প্রকাশনীর বই রাখতো। আব্বার কাছে প্রায় দিনই আবদার করতাম একটা গোয়েন্দা রাজু বা তিন গোয়েন্দার জন্য। কখনও কখনও আবদার রাখা হতো। বইগুলোকে গায়ের সাথে লেপ্টে বাসায় ফিরতাম। সেদিন সেদিন আর পা ব্যথা বলে রিকশা করে ফেরার বায়না ধরতাম না। বইগুলো পড়বো বাসায় ফিরে এই ভাবতে ভাবতে পথ কেটে যেত।
কয়েকটা কুকুর ডাকছে কাছে কোথাও। কুকুরের ডাকটা শুনেও কেন জানি মনে হচ্ছে ভোরের কথা। একটু পরেই হয়তো ঘুমাতে যাব। ভোরে হতো ঘুম ভাঙবে না আর। ভোরের জন্য তাহলে অপেক্ষা করতে হচ্ছে...

Saturday, February 20, 2010

কথা ব্লগ

ইচ্ছে হল একটা কথা ব্লগ লিখব। নতুন কিছু মাথায় এলোনা। স্টাডিট্যুর নিয়ে লেখাটাকেই তাই পড়ে ফেললাম। একদম ইচ্ছে হল তাই।

Powered by eSnips.com

Saturday, January 16, 2010

ভালবাসা তারপর

কষ্টগুলো শিকড় ছড়িয়ে
ওই ভয়ানক একা চাঁদটার সাথে
স্বপ্নের আলোতে যাবো বলে
যখন চোখ ভিজে যায় রাতে।

ভালবাসা তারপর দিতে পারে
গত বর্ষার সুবাস
বহুদিন আগে তারাদের আলো
শূন্য আধাঁর আকাশ।

প্রখর রোদে পোড়া পিঠ
আগুনের কুণ্ডে সেকাঁ হাত
শিশির ছোয়াঁয় পাবে হাসি
অন্ধকারে কেটে যাবে রাত।

Monday, November 02, 2009

পরীক্ষা

নিজের লেখা প্রথম ছাপার অক্ষরে দেখেছিলাম তৃতীয় শ্রেণীতে যখন পড়ি। কলেজের বার্ষিকীতে একটা ছড়া লিখেছিলাম পরীক্ষা নিয়ে। কথাগুলো ঠিকঠাক মনে করতে বেশ কষ্ট হল। একসময় হয়তো ভুলেই যাব। তাই তুলে রাখছি। অত ছোটবেলাতে আমি কিন্তু বেশ শান্ত-শিষ্ট সুবোধ বালক ছিলাম। পড়াশোনায় মোটেই ফাঁকিবাজ ছিলাম না। তখন মাথা থেকে এরকম ছড়া বের হলো কেন কে জানে! হয়তো তখন ভবিষ্যত দেখে ফেলেছিলাম দৈববশে।

পরীক্ষা
সামনে পরীক্ষা, কি যে করি,
তাই নিয়ে আমি চিন্তায় মরি।
বই খাতা খুলে দেখি মেলা পড়া বাকি,
ভাবি কেন দিয়েছিলাম এতো ফাঁকি!
অবস্থা দেখে আব্বু বোঝান আমায়,
চিন্তায় আমার সর্ব শরীর ঘামায়।

Saturday, October 31, 2009

আয়না

মধ্যরাতে আয়নায় তাকিয়ে তোমার কখনও কি মনে হয়েছে যে সামনের মানুষটা তুমি নও? হঠাৎ চমকে উঠে দেখেছো কেউ একজন নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তোমাকে? তোমার শিরদাঁড়া বেয়ে বয়ে গেছে একটা ভয়ের স্রোত? আয়নায় নিজেকে দেখে আজকে এরকম ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। ঘুম পাচ্ছিলো তাই চোখেমুখে পানির ঝাপ্টা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ নিজেকে আয়নাই দেখে প্রথমে স্তব্ধ হয়ে গেলাম। তারপর আতঙ্কিত হলাম। আয়নাটা খুব স্পষ্ট হয়ে গেল যেন। আর মনে হল ওপাশে একটা পরিষ্কার জগৎ। আমার সামনে একটা রক্তমাংসের মানুষ। চোখে গভীর কৌতুহল আর কৌতুক নিয়ে তাকিয়ে আছে। ভয়, কৌতুক আবার আতঙ্কের একটা মিশ্র অনুভূতিতে মাথার ভেতরটা কেমন একটা ফুটো গ্যাস বেলুনের মতো হয়ে গেল। অদ্ভুত সময় এই মাঝরাত।

Wednesday, October 28, 2009

বিদায় জিওসিটিজ

জিওসিটিজ বন্ধ হয়ে গেছে এই ২৬ অক্টোবর। আর কারও কোনো অনুভূতি হয়েছে কিনা জানি না আমার কিছুটা কষ্টের অনুভূতি হয়েছে। অনেকদিন ধরেই শুনতে পাচ্ছিলাম বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু আজকে ঢুকে যখন দেখলাম সত্যিই বন্ধ হয়ে গেছে তখন ছোট্ট একটা ধাক্কা খেয়েছি। অনেক অনেক স্মৃতি ছিল এই জিওসিটিজকে জড়িয়ে। এই জিওসিটিজেই প্রথম একটা ঠিকানা খুলেছিলাম নিজের। কত কী রেখেছিলাম সেখানে। শুরুতেই লিখেছিলাম আমার ছোট্ট ভুবনে স্বাগতম। বন্ধুদের দেখিয়ে কত ছেলেমানুষি ভাব যে নিতাম একটা সময়। আর একটা মেয়ে, যাকে অগুন্তি মেইল করেছি জীবনে তাকে সেই প্রথম যে মেইলটা করেছিলাম তাতে লিখেছিলাম -

My site: www.geocities.com/syeedibn.

Wednesday, July 22, 2009

এম্নে হইলে কেম্নে হইবে

বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা
বিপদে মোরে পড়তে না যেন হয়...

Tuesday, May 26, 2009

বল বিভ্রাট

ইদানীং আমি খুব টেবিল টেনিস খেলছি। শুধু আমি না, আমার চারপাশে অনেকেই খেলছে। ঘটনা হচ্ছে আমাদের ডিপার্টমেন্টে ইনডোর গেমস টুর্নামেন্ট হতে যাচ্ছে শিগগিরি। তাই ঝালিয়ে নেয়া আর কি, যদিও লাউ শেষমেষ কদুই। চারপাশে টিটি খেলার এই মহড়া দেখে আমার একটা ঘটনা মনে পরে গেল। ফাঁকতালে সেটাই লিখে রাখি এখানে। ঘটনা বেশি আগের না। বছরখানিক আগের হবে। তখন টিটি বল কিনতে যেতে হতো মেডিকেলে। ওখানে একটা দোকান ছিল যেখানে বেশ চড়া দামে ওগুলো বিক্রী হতো। এখন অবশ্য অবস্থার উন্নতি হয়েছে। ডিপার্টমেন্টের ভেতর আলাউদ্দিন ভাইয়ের কাছে থেকে এখন বল কেনা যায়। যাই হোক এখনকার স্বর্নযুগ না তখনকার কাদামাটির যুগের ঘটনা এটা। একদিন আমি সিড়ি দিয়ে নামবো বলে এগুচ্ছি হন্তদন্ত হয়ে। হঠাৎ টিটি বোর্ডের কাছ থেকে একটা জুনিয়র ছেলে আমার দিকে ছুটে এলো। আমি অবশ্য গতি কমাইনি। সিড়ি দিয়ে কয়েক কদম নেমেও গিয়েছি। ছেলেটা, সম্ভবত ডিপার্টমেন্টে একদম নতুন, বেশ ব্যগ্র হয়ে জিজ্ঞেস করলো, ভাইয়া বল ফেটে গেছে, কি করবো...। আমার তাড়া ছিল তাই তাত্তাড়ি জবাব দিলাম, মেডিকেলে যাও! 

Thursday, May 14, 2009

...

বিক্ষিপ্ত এবং অর্থহীন ভাবনায় আমি জীবনের সিকিভাগের কিছু কম ব্যয় করেছি বলে মনে করি। কাজেই এগুলো আমার ব্লগে তাদের উপস্থিতি  দাবী করেতেই পারে।

 

খুব রোদে আমার মাথায় জলীয় অংশগুলো বাষ্প হয়ে যায়। তখন আমার মাথার ভেতর মগজটা নাড়াচাড়া করে।

 

বাতাসে আমার ঘরের দরজা নড়ছে। এটাকে আমি ভূতের কারবার বলে চালাতে পারি এবং আগামীকাল থেকে ভূত দেখিনি কিন্তু ভূতের  ন্যাজ দেখেছি টাইপের গল্প ফেঁদে বসতে পারি।

 

এখন আমার পড়ার কথা। পড়ছিনা সম্ভবত এই কারণে যে আমি জিনিসগুলো বুঝে উঠতে পারবো এই ব্যাপারে খুব আত্মবিশ্বাসী নই।

 

বুদবুদ্গুলো অল্পতেই ফেটে যায় সম্ভবত এই কারণে যে সাবানটা খুব সস্তা মানের।

 

একদিন একজন লেখকের সাক্ষাতকার পড়লাম পত্রিকায়। জীবন নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন জীবন আসলে অর্থহীন, আমরা সেই অর্থহীন জীবনে নানা অর্থ আরোপের চেষ্টা করে যাই নিরন্তর। কথাটা আমার মাথার ভেতর ঢুকে গেল। তারপর সেই ভাবনাটা সহস্রদিকে ছুটে গেল।

 

আমার ছোটবেলায় আমি ছোটই ছিলাম। 

Wednesday, April 29, 2009

আজকের দিনটায় কি হবে বলে দিই

আজকের দিনটায় কি হবে আমি বলে দিই। আজ কোন হাতি ঘোড়া মরবে না ঢাকার রাস্তায়। আজকেও সূর্যের লজ্জা ঘুচবে না। ঢাকার রাস্তায় আজকেও জ্যাম ফেলে মন্ত্রীদের গাড়ি চবে পি্পপিপ হর্ন বাজিয়ে। আজকে তোমার সাথে আমার দেখা হবে না। আজকে আমার ঘুব ঘুমাতে ইচ্ছা হবে অসময়ে। আজকে আমার ইচ্ছে করবে খুব আমার কাজগুলো অন্য কেউ করে দিক। আজকের দিনটা বড়ই আজকের মত থাকবে। আজ আমি ছাতা খুলতে ভুলে যাব। আজ আমি বাস স্টপে গিয়ে তাড়াতাড়ি বাস পেয়ে যাব। আমার বাস আজকেও জ্যামে আটকা পড়ে থাকবে ্ধানমন্ডিতে। না আজকের দিনটায় আমি একটু বদলাবো না কি গতকালের থেকে? আমার তো একটু বদল দরকার ছিল। আর আমার বয়সটাও একদিন বাড়বে ৈকি আজকের দিনটার পরে।

Tuesday, April 21, 2009

ইচ্ছে হলো তাই...

ছেলেমানুষী শখ আমার কখনও যাবে না। কারও ছেলেমানুষী কোন শখের কথা শুনলে আমার খুব ইচ্ছে করে তার শখটা পূরণ করে দিতে। হয়তো এজন্য যে আমার ভেতর বরাবর একটা ছেলেমানুষ বাস করে। ছেলেবেলায় যত শখ ছিল সেগুলো বেশিরভাগই আজো আমি চাইলেই মনে করতে পারি। আর আমার সবচেয়ে ছোট ভাইটি এখন যে বয়সে সেই বয়সেই আমি সব কল্পনার ফানুস উড়াতাম দুহাত ভরে, তাই ওকে দেখে আমি আমাকে আঁকি। তারওপর আমার স্বপ্নগুলোরই রঙ চড়াই তার ওপর। হয়তো অন্য হাতে সব ফানুস ওড়ে না, আবার কোনটা ওড়ে, আমি তাকিয়ে থাকি, লুকিয়ে দেখি। তারপর আমার মুখে জীবনানন্দের হাসি ফোঁটে।

Thursday, April 16, 2009

কী লাভ ?

পাঁচ ফুট উচ্চতা নিয়ে মানুষ কত শত ফুট উচ্চতার বাড়ি গড়ছে।ইটের পর ইট দিয়ে কি বিশাল একেকটা ভবন সে বানাচ্ছে। এই অসাধ্য কাজ সে আজ কি অনায়াসে সম্ভব করে ফেলতে পারছে। কোত্থেকে শুরু করে আজ সে কত প্রযুক্তিই না আয়ত্ত্ব করেছে। আমি যে বাসে করে এই মুহুর্তে ভীষণ বেগে ছুটে চলেছি সেটাও চিন্তা করে দেখলে কি অসম্ভব একটা ব্যাপার! কিন্তু জানালা দিয়ে তাকিয়ে ছুটন্ত সবকিছুর ভেতর যখন রাস্তার পাশে ছিন্নমূল মানুষগুলোর দিকে দৃষ্টি গেল মনে এল অট্টালিকা না হোক যেনতেন একটা ছাদের নীচে এই মানুষগুলোকে আশ্রয় দেয়া কি তুলনায় নিতান্তই একটা অনায়াস কাজ ছিল না? কী লাভ হল তাহলে?

Wednesday, April 15, 2009

একদিন আমার ঘরে একটা জোনাকী পোকা ঢুকেছিল

তখন আমরা একটা কলোনীতে থাকতাম। সেই কলোনীটা ভর্তি ছিল অনেক গাছপালাতে, সেখানে রাতে ঝিঁঝিঁ পোকাও ডাকতো, ঠিক গ্রামের মত। তবে জোনাকী পোকা সেখানে কখনও দেখিনি। তাই ঘরে জোনাকী পোকা ঢুকে যাওয়াটা ঠিক দৈনন্দিন ঘটনা ছিলনা। কেবল একবারই আমার ঘরে একটা জোনাকী পোকা ঢুকেছিল। যখন সেটা আমার ঘরে ঢুকেছিল আমি তখন গভীর ঘুমে মগ্ন। জোনাকী পোকাটা কোত্থেকে যেন কি মনে করে, হয়তো পথ ভুলে আমার ঘরে ঢুকেছিল। তারপর আমার ঘুম কি করে ভাঙ্গলো আমার মনে পরেনা। হয়তো সেই জোনাকী পোকাটার আলো আমার ঘুম ভাঙিয়ে ছিল। চোখ খুলে সাথে সাথেই মনে হয় ওটার উপস্থিতি টের পাইনি আমি। হয়ত হঠাৎ করে খেয়াল করেছি মশারীর উপর কিছু একটা যেন জ্বলছে। প্রথম অনুভূতিটা ছিল ভয়ের। মনে হয়েছিল একটা জ্বলন্ত শয়তান বুঝি ঢুকেছে আমার ঘরে। কিছুক্ষন পরে মনে হয়েছিল ওটা হয়তো একটা জোনাকী পোকা। সেই জোনাকী পোকাটা ছিল অনেকদিন বিরতির পর দেখা একটা জোনাকী পোকা। প্রবল বিস্মিত হয়েছিলাম। ঘটনাটা যদি গ্রামের বাড়িতে ঘটত, যদি গ্রামের টিনের চালার একটা ঘরে ঘুম ভেঙে চোখ মেলে জোনাকী পোকাটাকে দেখতে পেতাম,তাহলে হয়ত খুব স্বাভাবিক ব্যাপার হত। কিন্তু ইট কাঠের দালানের ভেতর এই ঢাকা শহরে ঘরের ভেতর ঘুমঘোরে জোনাকী পোকা দেখতে পাওয়া খুবই অবাস্তব একটা ঘটনা। তাই আলোটাকে জোনাকী পোকা ভেবেই খুব স্বস্তিতে ছিলামনা, বরং চেতন এবং অবচেতন মনে ভয়ের রেশটাই প্রবল ছিল। আলোটাকে অতিপ্রাকৃত কিছু ভাবতে মনের একটা অংশ সায় দিচ্ছিল। আর কোণঠাসা যুক্তিবাদী অংশটা ক্ষীণসুরে বলছিল ওটা একটা নিরীহ জোনাকী পোকাই হবে। জোনাকী পোকাটা (যদি সেটা জোনাকী পোকাই হয়ে থাকে) একটু পর মশারীর উপর থেকে উড়ে চলে গিয়েছিল। তবে সেটা ঘরের ভেতরেই ছিল, অন্তত আমি ঘুমিয়ে পড়ার আগ পর্যন্ত। এরপর মনে মনেও সে দ্বন্দের আর সমাধান মেলেনি, হয়ত সমাধান চাইনি বলেই।

Thursday, April 03, 2008

মনে পড়ে...

বন্ধুরা তোমাদের সবাইকে খুব মনে পড়ছে। আর কিছুতেই মন বসছেনা। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে, মনটা তাতে আরও স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে মনটাকে ঘুরিয়ে পড়তে বসার চেষ্টা করবো ভেবেছিলাম, লাভ হয়নি। পুরোনো সেই দিনের কথা আর আজি বরিষণ মুখরিত গানদুটো শুনছিতো শুনছিই। টি-শার্টটা বের করে আবার পড়লাম সবার কমেন্টগুলো। মনটা আরও খারাপ হল। কেন যে সময় মাঝে মাঝে এতো দ্রুত চলে যায়....

Wednesday, April 02, 2008

এক টুকরো ছবি...

গতকাল ছিল আমাদের ইউনিভার্সিটি লাইফের শেষ দিন। পাঁচ বছর যে কেমন করে কেটে গেল ভাবতে গেলে নিজেই বিস্মিত হচ্ছি মনেমনে। কালকের দিনটা খুব বেশি সুন্দর ছিল। খুব আনন্দের ছিল, ছিল খুব কষ্টেরও। সকালে জমকালো একটা rally বের করেছিলাম আমরা। সামনে ব্যানার আর পেছনে টমটম নিয়ে আমরা নাচতে নাচতে পুরো ইউনিভার্সিটি ঘুরলাম। রাজু ভাস্কর্য থেকে অপরাজেয় বাংলা, সেখান থেকে শহীদ মিনার ঘুরে কার্জন হল হয়ে ডিপার্টমেন্ট। ইউনিভার্সিটির রাস্তায় যখন ঘুরছিলাম রাস্তার পথচারী আর আটকে পড়া গাড়িঘোড়ার ভেতর থেকে মানুষ আমাদের ছেলেমানুষী আনন্দ দেখছিল অবাক হয়ে। আমাদের কারো হাতে ছিল ঝুঞ্ঝুনি, কারো মুখে ছিল বাশিঁ আর কেউ হাতে উচিঁয়ে ছিল ফেস্টুন। আর নাচছিলাম আমরা সবাই প্রাণের ছন্দে। একসাথে মিলে মনের আনন্দগুলো সবার ঝরে ঝরে পরছিল। এখনও ভাবলেই ভালো লাগছে, খুব ইচ্ছে করছে ঠিক সেই সময়টায় ফিরে যেতে। কান পাতলেই শুনতে পাচ্ছি বাশিঁর পোঁ-পোঁ আওয়াজ, কিম্বা ঝুঞ্ঝুনির শব্দ, বন্ধুদের হাসি-কলরব। rallyটা যে এত সুন্দর হবে ভাবিনি আগে। আমাদের গায়ে ছিল সাদাটিশার্ট, মাথায় সাদা কাপড় বেধেছিলাম সবাই। আমরা পঞ্চাশজন তরুণ-তরুণী কিছুক্ষণ পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ হয়ে গিয়েছিলাম।

Wednesday, October 24, 2007

একটু ছেলেমানুষী

যাচ্ছে খুলে ঢাবি...
প্রথম যেদিন, খুব সকালে যাবি।
আলমের চা খাবি,
একটু দাঁড়াস, আমার দেখা পাবি!